ঢাকা মঙ্গলবার, মে ২৮, ২০২৪
নরসিংদী পুলিশের সোর্স-ক্যাশিয়ার পরিচয়ে চাঁদাবাজি!
  • হাজী জাহিদ, নরসিংদী
  • ২০২৪-০৪-০৭ ০৮:৫৪:০২
স্থানীয়রা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাশিয়ার ও সোর্স পরিচয়ধারী চাঁদাবাজরাই নিয়ন্ত্রণ করছে । কখনও নরসিংদী পুলিশের (ডিবি) ক্যাশিয়ার, কখনও নৌপুলিশ, কখনও থানা পুলিশ, কখনও রেপিড একশন ব্যাটালিয়ান কখনও আবার ফাঁড়ি পুলিশের ক্যাশিয়ার। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার এমন নানা পরিচয় দিয়ে বেড়ায় নরসিংদী পৌর এলাকার ভাগদী মহল্লার সোস আমিন (৪২) পিতা মনজুর। আর এসব ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে সে নরসিংদী নরসিংদীর থানার বিভিন্ন স্পটে চাঁদাবাজি করছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এমন নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকার পরিচয় দিয়ে ওরা নরসিংদীর আনাচে-কানাচে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশের ক্যাশিয়ার আর সোর্স নামধারী এসব চাঁদাবাজের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। তারা না পারছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যকে এসব কষ্টের কথা জানাতে, না পারছেন সহ্য করতে। কারণ কথায় কথায় এরা পুলিশের ভয় দেখায়। নরসিংদী গোয়েন্দা পুলিশ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও থানা পুলিশ অবশ্য বলছে ভিন্ন কথা। এসব বাহিনীর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাশিয়ার বা সোর্স পরিচয়ে যারাই অপকর্ম করুক না কেন তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নরসিংদী পৌরসভার মীর বাড়ির মোর এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে বছরের পর বছর প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছেন আমিন নামে এক ব্যক্তি। মোর এলাকার বিভিন্ন দোকানে ঢুকে কাউকে ইয়াবা ফেনসিডিল দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি চলছে। এভাবে মাসে লাখ লাখ টাকা আদায় করছেন এই চাঁদাবাজ। অনেক সময় এরা রেপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ফোর্সের সোর্স বা ক্যাশিয়ার পরিচয় দিয়েও সুবিধা আদায় করেন বলে অভিযোগ। আর চাঁদা হিসেবে তোলা টাকার একটা অংশ জাহাঙ্গীর নামে আরে একজন সোসের উপরমহলের দেওয়ার কথা বলে নেন বললেও জানা যায়। অপরদিকে ভাগদী এলাকায় থানা পুলিশের সোর্স ও ক্যাশিয়ার পরিচয়ে মাসে মাসে চাঁদা তোলেন আলমগীর নামে এক ব্যক্তি। আবার আমিনের হয়ে কাজ করেন তার কিছু সহযোগী। তারাও প্রভাব কাটিয়ে ঘাটে ঘাটে ও ক্রাইম স্পট থেকে চাঁদা আদায় করেন। এমনকি এই আলমগীর নিজেকে একবার ডিবি পুলিশ ও নরসিংদী মডেল থানা ক্যাশিয়ার হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। শুধু থানা কিংবা ফাঁড়ি নয়, এই জাহাঙ্গীর আমিন-পুলিশের ক্যাশিয়ার হিসেবেও নিজেকে ব্যবসায়ীদের কাছে জাহির করেন। নরসিংদীর বাগদী মীর বাড়ির মোড় এলাকায়, একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সোস আমিনের যন্ত্রণায় তারা ব্যবসা করতে পারছেন না। কেননা আমিন নিজেকে একেক সময় একেক বাহিনীর সোর্স ও ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচয় দেন। এ ছাড়াও রেপিড একশন ব্যাটালিয়ন ক্যাশিয়ার পরিচয় দেন মোঃ আমিন ও আলমগীর নামে দুই ব্যক্তি। পুলিশের ক্যাশিয়ার পরিচয় দেন তাদের একাধিক সহযোগী একাদীক চাঁদাবাজ। নতুন করে তাদের সহযোগীদের নামও শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোর্স-ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচয় দেয়া এসব ব্যক্তি মীর বাড়ি এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছেন। পুলিশের ভয়ে কিংবা নানামুখী হয়রানির শঙ্কায় তারা মুখ বুঁজে ওদেরকে চাঁদা দিয়ে যাচ্ছেন। রিক্সার মিস্ত্রি সবুজ, তরমুজ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হানিফ পিতা মৃত জাহাঙ্গীর বাঙারী ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর পিতা সিদ্দীক, সোবান ফ্লাক্সিলোড ব্যবসায়ী, মোহাম্মদ মানিক বাঙারী ব্যবসায়ী পিতা মৃত মোহাম্মদ ফরিদ মিয়া, মোঃ নসু মিয়া পিতা মৃত করিম বেপারী ঠিকাদার মীরবাড়ির মোড় মার্কেট মালিক, এডভোকেট মীর মুক্তার হোসেন এজিপি জজ কোর্ট নরসিংদী, সাবেক চট্টগ্রাম বন্দর কর্মকর্তা খোরশেদ আলম মিধা বলেন, এসব সোসদের শর্ত অনুযায়ী পর পর দুই মাস টাকা দিতে না পারলেই নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। এমনকি অনেকে মিথ্যা অভিযোগে জেলও খেটেছেন। তাই ভয়ে মুখ খুলছেন না কেউ। নরসিংদী পুলিশের কথিত এই কয়েকজন ক্যাশিয়ার-সোর্স পরিচয়ধারীর কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে নরসিংদী পুলিশের সেবা কার্যক্রম। স্থানীয়রা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাশিয়ার ও সোর্স পরিচয়ধারী আমিন ও আলমগীরকে দ্রুত গ্রেফতার করে ব্যবসায়ীদের মুক্তি না দিলে আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা কমতে থাকবে। ব্যবসায়ী মোঃ সোহরাব পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ উল্লেখ করেছেন তার দোকানে ফেনসিডিল রেখে আমিন তার কাছ থেকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে ৬০ হাজার টাকা আদায় করেছেন যার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে বাগদি মারকাজ মসজিদের মোয়াজ্জেন এর কাছ থেকে ২৮ হাজার টাকা নেন থানা থেকে পালসার মোটরসাইকেল তাকে কিনে দিবেন বলে, উত্তর টাকা ফেরত চেয়ে মসজিদের মুয়াজ্জিন নরসিংদী মডেল থানায় আমিনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগও করেছেন। সোস পরিচয়ে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে নরসিংদী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, পিপিএম জানান পুলিশের কোন নির্দিষ্ট সোস নেই, পুলিশকে তথ্য নরসিংদীর সকল জনগণ দিতে পারে আমি যতদিন নরসিংদীতে আছি কোন অপরাধীর ছার নেই জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া পুলিশের কাজ, আর সেই কাজটি আমরা করে যাচ্ছি,। অভিযোগ বিষয়ে শুনেছি এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসি সদরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে জানতে নরসিংদীর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ এর সাথে মুঠো ফোনে জানতে ফোন করলে বলেন অভিযোগ পেয়েছি তার বিরুদ্ধে তদন্ত-পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেটে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগে পিএফজি সদস্যদের তিনদিন ব্যাপী বেসিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কাউকে ছাড় দেবো না- নির্বাচন কমিশনার রাশেদা
ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় ঝালকাঠিতে ৮৮৫ আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত
সর্বশেষ সংবাদ